শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ মোহনপুর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ মৌগাছি ইউপি শাখার কমিটি গঠণ ◈ মোহনপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণ সচেতনতা মূলক প্রচার অভিযান ◈ রাজশাহী বিভাগের ১২ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলগণ শপথ নিলেন ◈ গোদাগাড়ীতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে দুইদিন ব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ ◈ মোহনপুরে এসপির নামে ফোন করে সার্জেন্ট এর সাথে প্রতারণা ◈ সিরাজগঞ্জে বাস ট্রাক সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ◈ মহাদেবপুরের আশ্রয প্রকল্প পরিদর্শন করলেন বিভাগীয কমিশনার ◈ নওগাঁয় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ডিজিটাল ম্যারাথনের উদ্বোধন ◈ বহুপ্রতিক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে খাসের হাট বাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কাজ ◈ বাগমারায় আবাদি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, চলছে পুকুর খননের হিরিক প্রশাসন নীরব

করোনার মধ্যেই এবার দেশে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা!

প্রকাশিত : ০৯:১০ পূর্বাহ্ণ, ১৪ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার ১৩৮ বার পঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধান নিউজ ডেক্স, :

আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বেশ কয়েকটি কালবৈশাখী ঝড়। তাপপ্রবাহের কারণে আকাশে মেঘমালা তৈরি হচ্ছে, আর এই মেঘমালা থেকেই নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। নিম্নচাপ শক্তিশালী হলেই হবে ঘূর্ণিঝড়। চলতি মাসে এমন ঝড়েরই আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস শঙ্কা তৈরি করেছে উপকূলের মানুষের জীবনে। দেশে দুই কোটির বেশি মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এদের বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্থানীয় সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান নেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারির এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে উপকূলের সাধারণ মানুষ। অথচ করোনা প্রতিরোধের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। এই সময়ে যদি ঘূর্ণিঝড় হয় তাহলে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে উপকূলবাসীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে নিতে হবে ব্যাপক উদ্যোগ।

বিশ্বব্যাপী করোনা মোকাবিলার প্রধান শর্ত হচ্ছে- সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় হলে সাইক্লোন শেল্টারে সেই দূরত্ব মেনে চলা কঠিন হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আগে যেভাবে লোক রাখা হতো এখন তা সম্ভব হবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনিতে আগের চেয়ে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো। সবশেষ দুইটি ঘূর্ণিঝড়ে উপকূল থেকে প্রায় সব মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া গেছে। কিন্তু এখন ঘূর্ণিঝড় হলে আগের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করোনার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মাসে স্বাভাবিক ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি একটি ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এ সময় সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হয়। সেটি বেশি শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। তবে অনেক সময় আবার ঝড়ে রূপ নেওয়ার আগেই দুর্বল হয়ে যায়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতুগুলোর পরিবর্তন ঘটছে। আগে যেখানে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হতো। এখন তা হচ্ছে না। এখন প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই এই ঝড় শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আকাশে অনেক মেঘমালার সৃষ্টি হয়। এসব মেঘমালা যদি সাগরে তৈরি হয়, তাহলে তা সাগরে জলীয় বাষ্প এবং পানি মিলে-মিশে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এই নিম্নচাপ বেশি শক্তিশালী হয়ে গেলেই মুশকিল। তখন সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

আবহাওয়ার দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এরমধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এখন যদি ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, কীভাবে তা সামাল দেওয়া হবে?

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মোহসীন গণমাধ্যমকে বলেন, এই সময়ে এই ধরনের ঝড় আসলেই আতঙ্কের বিষয়। কিন্তু আমরা আশা করি, সামাল দিতে পারবো। কারণ, গত দুইটি ঝড় বুলবুল এবং ফণীর সময়ে আমরা কিন্তু খুব পরিকল্পিতভাবে সব করতে পেরেছিলাম। আমাদের ৫৬ হাজার ভলান্টিয়ার আছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবসময় রেডি আছে। চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও আমরা স্কুল-কলেজগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার কর‍তে পারি। এসব কেন্দ্রে মানুষকে নিয়ে আসা, খাবার দেওয়া এগুলোর ব্যবস্থাপনা সবই আমাদের রয়েছে। আগে আমরা আট ঘণ্টায় ২২ লাখ লোক শেল্টার সেন্টারে নিয়ে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, এখন যদি ঘূর্ণিঝড় হয় তাহলে এবার একটু ভিন্নভাবে ব্যবস্থানা করতে হবে। আগে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেভাবে লোক রেখেছিলাম, এখন সেভাবে রাখা যাবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমরা স্কুল-কলেজগুলোকে ব্যবহার করতে পারবো। এমনকি গ্রামের বড় বাড়িগুলো যেখানে মানুষের বসবাস কম, সেখানেও আশ্রয়কেন্দ্র করা যেতে পারে।

মো. মোহসীন জানান, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমাদের আলাদা কমিটি আছে। শিগগিরই বসে এই বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা করবো এবং উদ্যোগগুলো নেওয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক সত্যের সন্ধান'কে জানাতে ই-মেইল করুন- sattersandhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক সত্যের সন্ধান'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক সত্যের সন্ধান | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT