শুক্রবার ১৪ মে ২০২১, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ◈ ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রবীণ আ.লীগ নেতা রুস্তম আলী প্রামাণিক ◈ যশোর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আজিজুল ইসলাম ◈ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে কর্মহীন অসহায়ের মানুষের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ◈ তানোরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপকরণ বিতরণ। ◈ নওগাঁর মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে কাঙ্খিত সেবা পেয়ে খুশি জনগণ ◈ নওগাঁয় অসহায় কৃষকের জমির ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিলো কৃষকলীগ ◈ নওগাঁয় প্রভাবশালীরা জমি দখল করে বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়ায় ৮টি পরিবার অবরুদ্ধ ◈ রাজশাহীতে অশুভ শক্তি রুখে দেয়ার প্রত্যয় ◈ পঞ্চগড়ে কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন বিতরণ

স্বল্প আয়ের মানুষদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া অমানবিক

প্রকাশিত : ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, ১৫ এপ্রিল ২০২০ বুধবার ২১৯ বার পঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধান নিউজ ডেক্স, :

করোনাভাইরাসের এ মহাদুর্যোগের দিনে বাংলাদেশ সরকার কি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়েছে- এ প্রশ্ন যদি আসে তাহলে উত্তর একটাই হবে- বুঝে হোক আর প্রভাবিত হয়ে হোক, সরকার শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী চলমান ছুটি বর্ধিত করার প্রজ্ঞাপনে ‘প্রয়োজনে রফতানিমুখী শিল্প-কলকারখানা চালু রাখতে পারবে’ বলে বলা হয়েছে।

এ ধরনের প্রজ্ঞাপনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা হল, পোশাক শিল্পের মালিকরা এর সুযোগ নিয়ে ঢালাওভাবে তাদের ফ্যাক্টরি খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। ২৪ মার্চ ছুটি ঘোষণার পর মানুষ যেভাবে স্রোতের মতো ঢাকা ছেড়েছিল, পোশাক কারখানা খোলার ঘোষণার পর শ্রমিকরা আবারও ঢাকামুখী হয়েছে। যার ফলে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগের দিনে এ এক অভূতপূর্ব আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। একটি বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়, একদিকে সরকার যেখানে সারা দেশে লকডাউন কড়াকড়ি করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে ঢালাওভাবে শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার এ আত্মঘাতী নির্দেশ দিয়ে কী উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছে? জানা গেছে, ১ এপ্রিল দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যিনি নিজেও একজন পোশাক শিল্পের সফল ব্যবসায়ী, তিনি বলেছিলেন, পোশাক কারখানা চলতে বাধা নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সে সভায় ৫ এপ্রিল কারখানা খোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। সেদিনই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব কারখানায় আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ আছে এবং করোনা প্রতিরোধে জরুরি পণ্য- পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার, ওষুধ ইত্যাদি উৎপাদন কার্যক্রম চলছে সেসব কারখানা বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উল্লেখিত পণ্য উৎপাদন করে এমন কিছু কিছু কারখানা চলমান ছিল। পোশাকশিল্প মালিকদের অন্যতম সংগঠন বিকেএমইএ ৪ এপ্রিলের পর তাদের পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার বিধিনিষেধ আর থাকবে না বলে জানায়।

বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, ডিআইএফই কোন্ কোন্ শিল্প-কারখানা খোলা রাখা যাবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হল সরকারি প্রজ্ঞাপনের অস্পষ্টতা। একটু লক্ষ করলে বোঝা যাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিবিধ-৪ শাখার একজন উপসচিব স্বাক্ষরিত ১ এপ্রিল তারিখে জারিকৃত সরকারি প্রজ্ঞাপন যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে, প্রয়োজনে ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প-কলকারখানা চালু থাকতে পারবে। এ উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প-কলকারখানা বলতে সব ধরনের উৎপাদনশীল মিল-কারখানা ও পোশাক কারখানাকেই বোঝায়। আমাদের পোশাকশিল্প শতভাগ রফতানিমুখী। প্রজ্ঞাপনের কোথাও কিন্তু উল্লেখ নেই, শুধু ‘আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ আছে এবং করোনা প্রতিরোধে জরুরি পণ্য উৎপন্নকারী কারখানা চালু রাখতে পারবে।’ মন্ত্রণালয় যদি এ বিষয়টি স্পষ্ট করে প্রজ্ঞাপন জারি করত তাহলে পোশাক কারখানার মালিকরা হয়তো সে সুযোগ নিতে পারতেন না।

তারা ডিআইএফই কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিটি গুরুত্ব না দিয়ে প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাটি তাদের স্বার্থের পক্ষে যায় বলে এ সুযোগটি লুফে নিয়েছেন। সুতরাং যা হওয়ার তাই হয়েছে। পোশাক কারখানার মালিকরা তাদের শ্রমিকদের জানিয়ে দিলেন, ‘কাজে যোগ দাও, নইলে বেতন দেওয়া হবে না।’ অনেক মালিক চাকরিচ্যুতির হুমকিও দিয়েছেন। স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সামনে অন্য কোনো অপশন না থাকায় চাকরি হারানোর ভয়ে এবং বেতন পাওয়ার আশায় করোনারভাইরাসের তোয়াক্কা না করে যেভাবেই হোক ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যখন ঢাকাগামী এসব শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিল তখন তাদের মুখেই পোশাক কারখানার মালিকদের এ চোখ রাঙানো হুমকির কথা জানা গেছে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা এর দায় নিতে রাজি হননি। তারা কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে মালিকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভেবে অবাক হই, সরকার পোশাক কারখানার শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বাবদ পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণার পরও পোশাক কারখানার মালিকরা কোন বিবেচনায় শ্রমিকদের বেতন দেবেন না বলে হুমকি দেন! এ প্রসঙ্গে ঢাকার একটি প্রসিদ্ধ কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম আসাদুজ্জামান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি চমকপ্রদ পোস্ট দিয়েছেন যা এখানে উল্লেখ না করে পারছি না। তিনি লিখেছেন, ‘সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুযোগ নিয়ে পোশাক কারখানার মালিকরা ‘গাছের আগাও খেতে চান, আবার গোড়ারটাও খেতে চাচ্ছেন।’

পোশাকশিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে যে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে পোশাকশিল্প মালিকরা সুযোগ পেলেই কৃতিত্ব নিয়ে থাকেন। তারা নিশ্চয়ই এ সাফল্যের পেছনে এ শ্রমিক শ্রেণির মানুষের অবদান অস্বীকার করবেন না। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব গরিব শ্রমজীবী মানুষের কারখানায় যোগদানের নির্দেশ দিয়ে তারা যে অমানবিক কাজটি করেছেন তা স্বীকার করতেও যেন এসব ধনিক শ্রেণির মানুষের কণ্ঠে বাজে। ৪ এপ্রিলের সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিজিএমইএর পরিচালক ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিমের বক্তব্য শুনে তো রীতিমতো থ মেরে গেছি। তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় ঢাকামুখী মানুষের পোশাক কারখানার শ্রমিক বলে অস্বীকার করার চেষ্টাই করেছেন। প্রতি মাসের প্রথমদিকে চাকরির সন্ধানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাধারণত এরকম মানুষ ঢাকায় আসে বলে তিনি তার বক্তব্যে জানালেন।

ঢাকাগামী এ বিপুলসংখ্যক জনস্রোতকে তিনি চাকরি সন্ধানী মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে এদের সঙ্গে কিছুসংখ্যক পোশাক কারখানার শ্রমিক থাকতে পারে বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যুক্তি হিসেবে বললেন, ২৫ মার্চ পর্যন্ত যেহেতু পোশাক কারখানা খোলা ছিল এবং ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পোশাক কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিকই নাকি ঢাকা ত্যাগ করতে পারেনি। একইদিন রাতে ’৭১ টেলিভিশনের টক শো’র উপস্থাপিকা ফারজানা রূপার একটি প্রশ্নের উত্তরে বিজিএমইএর আরেক পরিচালককে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে উল্টো প্রশ্ন করতে শুনলাম। তিনি বলেছেন, তারা (আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা) কেন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ঢাকা আগমন ঠেকাতে পারলেন না?

সরকারি প্রজ্ঞাপনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়ে পোশাক কারখানার মালিকরা যে গর্হিত কাজটি করে ফেলেছেন তা স্বীকার না করে, ঘটনা ঘটিয়ে অন্যের ঘাড়ের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে তার এ রকম নির্লজ্জ প্রকাশ্য আস্ফালন আমাদের সত্যিই অবাক করেছে। পোশাক কারখানার মালিকদের এখন প্রশ্ন করি, আপনারা বিদেশি ক্রেতাদের দোহাই দিয়ে বিশ্বব্যাপী মহাদুর্যোগের এ সময়ে রাষ্ট্রের নির্দেশিত লকডাউন ভঙ্গ করে কারখানা খোলার যে সিদ্ধান্ত নিলেন, আর আপনাদের হুমকির ভয়ে ভীত হয়ে, জীবন-জীবিকার সংগ্রামে ব্যস্ত এ দরিদ্র মানুষ, চাকরি বাঁচানোর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হেঁটে ছুটে এসেছে, শুধু ছুটে আসাই নয়; একই সঙ্গে নিজের ও দেশের হাজারও মানুষের যে জীবনের হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াল, তার দায় কিন্তু আপনাদেরই নিতে হবে। নিজেরা কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স রক্ষা করে এ প্রান্তিক মানুষগুলোকে যে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিলেন তার ক্ষতিপূরণ আপনারা কী দিয়ে শোধ করবেন? মনে রাখবেন সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এসব শ্রমিকের উদয়াস্ত শ্রমের জন্যই আজ আপনি সমাজে উচ্চবিলাসী জীবনের স্বাদ পেয়েছেন। সেই প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবন নিয়ে আপনাদের এমন জুয়া খেলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

৫ এপ্রিল পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের ঢাকা আসতেও অনেক বেগ পেতে হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করা শ্রমিকরা পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহনে গাদাগাদি করে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। পোশাক কারখানার মালিকদের এরূপ সিদ্ধান্তের জন্য দেশব্যাপী সারাদিন ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলে সেদিন রাতেই পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠনই ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধের অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়। প্রশ্ন হল, পোশাক শিল্প মালিকদের এ সংগঠন দুটির নেতারা কারখানা খোলার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত না নিয়ে কারখানার মালিকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে দেশবাসীর জন্য যে বিপদ ডেকে আনলেন এর দায় কে নেবে? সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কারখানা বন্ধ রাখার এ সিদ্ধান্ত যদি ক’দিন আগে নেয়া হতো তাহলে সমস্যা কী ছিল? ঢাকামুখী মানুষের ঢল আসার পথ করে দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার যে আশঙ্কা তৈরি করা হল, তার চরম খেসারত যে আমাদের দিতে হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমার বিশ্বাস সরকারের ওপর মহলেও এ নিয়ে যথেষ্ট উৎকণ্ঠা আছে। এ ঘটনা নিয়ে যতই তোলপাড় শুরু হোক না কেন, যে ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের বিস্তার যে কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।

উন্নত বিশ্বে করোনাভাইরাস বিস্তারের সময়ের তুলনা করলে আগামী দু’তিন সপ্তাহ পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা কল্পনা করলেও আতঙ্কিত হতে হয়। বিশ্বব্যাপী এ মহাদুর্যোগের মধ্যে বারবার হুশিয়ারি উচ্চারণ করার পরও আমাদের নীতিনির্ধারণী মহলের সমন্বয়হীনতার যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি তা ভবিষ্যতে মহাদুর্যোগের ইঙ্গিতই বহন করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তাতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও কর্তাব্যক্তিদের দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। সঠিক তথ্য প্রবাহ ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে মানুষের ভেতর চাপা অসন্তোষ আছে। এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। কিছুদিন আগে আমার একটি লেখায় বলেছিলাম সরকারের সমালোচনা না করে চলুন সম্মিলিতভাবে আমরা এ বিপদ মোকাবেলা করি। কিন্তু এখন দেখছি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সিরিজ গাফিলতির জন্য দিন দিন ভয়াবহ পরিস্থিতি যেভাবে ঘিরে ধরছে, জনগণ যদি তাদের ভুলগুলো এখন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তাতে দোষের কিছু দেখি না। কারণ দিনের শেষে দেশের জনগণই হবে এসব ভুলের চূড়ান্ত শিকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ প্রজ্ঞাপনটি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের আরও একটি মারাত্মক ভুলের নমুনা।

একেএম শামসুদ্দিন : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক সত্যের সন্ধান'কে জানাতে ই-মেইল করুন- sattersandhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক সত্যের সন্ধান'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক সত্যের সন্ধান | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT