শনিবার ১৫ মে ২০২১, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ◈ ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রবীণ আ.লীগ নেতা রুস্তম আলী প্রামাণিক ◈ যশোর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আজিজুল ইসলাম ◈ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে কর্মহীন অসহায়ের মানুষের পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম ◈ তানোরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও উপকরণ বিতরণ। ◈ নওগাঁর মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদে কাঙ্খিত সেবা পেয়ে খুশি জনগণ ◈ নওগাঁয় অসহায় কৃষকের জমির ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিলো কৃষকলীগ ◈ নওগাঁয় প্রভাবশালীরা জমি দখল করে বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়ায় ৮টি পরিবার অবরুদ্ধ ◈ রাজশাহীতে অশুভ শক্তি রুখে দেয়ার প্রত্যয় ◈ পঞ্চগড়ে কৃষকের মাঝে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন বিতরণ

করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সমবায় রোল মডেল:- মোঃ রুহুল আমিন মোল্যা পরিদর্শক জেলা সমবায় কার্যালয়

প্রকাশিত : ০৬:৫৪ অপরাহ্ণ, ২২ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার ৭৪ বার পঠিত

মোঃ আক্কাস আলী, স্টাফ রিপোর্টার:

মো.আককাস আলী স্টাফ রিপোর্টার :-

করোনা ভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি। ভেতরে-বাইরে চলছে রক্তক্ষরণ। চারদিকে চলছে হাহাকার।এর শেষ কোথায় কেউ জানে না। গণমাধ্যমের তথ্য মতে, অভারের তাড়নায় অন্তত ১৬ শতাংশ মানুষ শহর ছেড়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে প্রায় চার কোটি নতুন দরিদ্র তৈরী হবে। গ্রামাঞ্চলে এই নতুন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হবে প্রায় তিন কোটি এবং শহরাঞ্চলে এককোটি। বর্তমান দারিদ্র হারের সঙ্গে এই বিপুল নতুন দরিদ্র মিলে বাংলাদেশে দারিদ্রহার হতে পারে ৪১ শতাংশ। ৬০ লাখ চাকরি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য হারিয়ে যাবে। যা দেশের মোট শ্রমশক্তির ১০ শতাংশ । করোনার প্রভাবে দেশে ৯৫% পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত। বড় বড় ব্যবসাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সাধারণের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। আর একটি উন্নয়নশীল দেশের সব ক্ষেত্রে সরকারের জন্য নজর দেয়াটা কঠিন। তাই নিজেদের স্চছলতা বাড়াবার উদ্যোগ নিজেদেরই নিতে হবে। এক্ষেত্রে সমবায় প্রয়াস হতে পারে প্রধান অনুঘোটক।
এ প্রসঙ্গে ইতিহাসের পুনর্পাঠ হতে পারে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের পর হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। এ সময় ইংল্যান্ডের ‘রচডেল’ গ্রামের ২৮ জন তাঁতী ২৮ পাউন্ড পুজিঁ নিয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামেন। গড়ে তোলেন ইতিহাসের প্রথম সমবায় সমিতি । ১৮৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতি সমবায় আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের পথ ধরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ প্রকার (পূর্বে ছিল ২৯ প্রকার) সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন,গৃহায়ণ,পরিবহন,দুগ্ধ উৎপাদন , ঋণ ও সঞ্চয় এবং ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি সংক্রান্ত কাজ হচ্ছে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। সমবায় সমিতি এমন একটি জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে থাকে গণতন্ত্র, সম্মিলিত কর্ম প্রচেষ্টা, ব্যাপক উৎপাদান কর্মযজ্ঞ, এবং সদস্যদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির প্রয়াস। আধুনিক কৃষির জন্য যে পুজিঁ, ঝুঁকি এবং যৌথ উদ্যোগ দরকার তার জন্য প্রয়োজন গণমুখী কৃষিভিত্তিক সমবায় ব্যবস্থা। খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের দারিদ্র দূর করতে হলে কৃষি সমবায়ের কোন বিকল্প নেই। যথাযথ নীতি ও সার্বিক সহযোগিতা পেলে কৃষি সমবায় দেশে খাদ্য ঘাটতি দূরীকরণে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। দারিদ্র বিমোচন, দুরযোগ ব্যবস্থাপনা , পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ এবং খাদ্য নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টিতে অন্যতম এবং উৎকৃষ্ট পদ্ধতি হলো সমবায়ী উদ্যোগ। এজন্য প্রয়োজন সরকারী পর্যায়ে উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা এবং সম্মিলিত প্রচেস্টার মাধ্যমে দেশের জন্য, নিজের জন্য সমবায় প্রতিষ্ঠা।
দারিদ্র বিমোচন অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি পরীক্ষিত স্বীকৃত মাধ্যম হলো সমবায়। বর্তমানে অর্থনীতির সব শাখায় তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা আনয়ন, প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অনগ্রসর ও প্রশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন বিশেষত নারীর উন্নয়নে
সমবায় সেক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে সমবায় সমিতির সংখ্যা প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি। এসব সমিতির মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ লোকের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃস্টি হয়েছে। দেশে সমবায়ী মানুষের সংখ্যা এককোটিরও বেশী। এসব সমবায সমিতির মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও বিতরণের সাথে সরাসরিযুক্ত। আর এসব সমবায় সমিতির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই মহিলা সমবায় সমিতি।

করোনাকালীন এ সময়ে স্ব-জনদের নিয়ে গড়ে তোলা সমিতির সদস্য গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হবে। সম্ভাব্য যত দিকে পারা যায় যোগাযোগ করতে হবে। । তথ্য যোগাড় করতে হবে। তথ্য বিনিময় করতে হবে। রীতিমত গবেষণার ভিত্তিতে এগোতে হবে। পরিবারের সদস্য ,আতœীয় , বন্ধু-বান্ধবকে একসাথে সংযুক্ত করতে হবে। সবার সাথে আলোচনায় একেকজনের একেক ধরণের পরামর্শ ও দক্ষতা, যোগাযোগ ও পরামর্শ বেরিয়ে আসবে। এদের কেউই ফেলনা না, কারও পরামর্শই তুচ্ছ নয়। এদের নিয়ে সমবায়ের ভিত্তিতে গুরুত্ব অনুসারে সম্ভাব্য কর্মসূচী নির্ধারণ করতে হবে। সবচেয়ে কম পুজিঁতে বেশী লাভ কিভাবে সম্ভব তা খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোক্তারা স্থানীয় সমবায় সমিতিগুলোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারেন। টিকে থাকার অর্থনীতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রবাস ফেরত ও বেকারদের দিয়ে সমিতি গঠনা করে বিভিন্ন ফসল ও সবজী চাষ করা যেতে পারে। শহরাঞ্চলে তারা হয়ে উঠতে পারেন ছাদচাষী । নিজের ফ্লাটের বারান্দার টবে বা বাড়ির ভেতরে সবজী উৎপাদন করতে পারেন তারা । সবজী উৎপাদনের পাশাপাশি সমিতির নেতারা পরিকল্পিতভাবে মাছ, হাসঁ-মুরগী ও ডিম উৎপাদনে যেতে পারেন। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে নিজেদের পরিবহনে কাছাকাছি বড়ধরনের বাজারে পাঠাতে পারেন। তাছাড়া করোনা ভাইরাস মহামারীর এ সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক,গ্লাভস ইত্যাদি পণ্য উৎপাদন করতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে খাবার,কাপড় বা কাঁথা বিক্রী, শিক্ষিত জনশক্তির জন্য আউট সোর্সিং আয়ের বড় উৎস্য হতে পারে।

সর্বোপরি, উদ্যোক্তারা আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উপযোগী বা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প এবং কলকারখানা স্থাপন করে নিজেদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করায় অবদান রাখতে পারেন তারা।

পরিশেষে, মহামারিকাল বা দুরযোগ ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্য নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টিতে সমবায়ী বা যৌথ উদ্যোগ সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। আর এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা , দ্রব্য মূল্যের স্থিতিশীলতা আনা , প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাতে পারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি ধীরে ধীরে আবারো গতিশীল হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে পৌঁছে যাবে এক অনন্য উচ্চাতায়। লেখকঃ মোঃ রুহুল আমিন মোল্যা পরিদর্শক জেলা সমবায় কার্যালয়,ঝিনাইদহ

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক সত্যের সন্ধান'কে জানাতে ই-মেইল করুন- sattersandhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক সত্যের সন্ধান'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক সত্যের সন্ধান | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT