মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীর মোহনপুরে লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত ◈ দেশের দুর্দিনে মাস্ক হাতে রাস্তায় রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব ◈ আটোয়ারীতে লকডাউন কার্যকরে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ মহড়া ◈ রমজানের শুরুতেই বেগুনের বাজারে আগুন! ◈ মহাদেবপুরে ২ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগে হাজী শরিফের বিরুদ্ধে মামলা ◈ সুবর্ণচরের বিএমএসএফ এর উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ◈ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কৃষি জমি ও বনজফলজ গাছ যাচ্ছে ইভাটার পেটে ◈ লকডাউনে আমি ঘরে থাকতে চাই আমাকে খাবার দিন ◈ তানোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র নির্বাচন ◈ নওগাঁয় কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কথিত প্রেমিক কারাগারে

রেমা ফুল ও নারিকেল শলার কারবার

প্রকাশিত : ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ৪২৩ বার পঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধান নিউজ ডেক্স, :

 

ঘরের কাজের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা তৈরি করছেন ফুল ও শলার ঝাড়ু। রেমা ফুল ও নারিকেল শলা দিয়ে তৈরি ফুল ও শলার ঝাড়ুর চাহিদাও বাড়ছে। বাঙালি পরিবারের নারী-পুরুষরা ঘরে বসে টাকা উপার্জনের এ পন্থা বেছে নিয়েছে। তবে স্বল্প পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দরিদ্র এসব শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘ দিনের এ ক্ষুদ্র প্রয়াসকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে পারছেন না। জীবিকার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি ফুল, শলা ঝাড়ু ও চুনা ব্রাশ তৈরির শিল্প গড়ে তুলেছেন। জেলার মধ্যে একমাত্র কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে বাঘমারা গ্রামে এ শিল্পটি গড়ে উঠলেও ঝাড়ু তৈরির কারিগররা নানা সমস্যায় জর্জরিত।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষরা কাজের ফাঁকে ফুল ও শলার ঝাড়ু তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকেই ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রায় শতাধিক পরিবার এ পেশায় সম্পৃক্ত। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঝাড়ু বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এ শিল্প উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ভিটেমাটি ছাড়া। নেই কোনো জমিজমা। তারা শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রাখলেও পুঁজির অভাবে শিল্পের উন্নতি ঘটাতে পারছেন না। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ খলিল মিয়া বলেন, ‘জন্মের পর থেকে আমি ফুল ও নারিকেল শলার ঝাড়ু তৈরি করে বিক্রি করছি। সাথে স্ত্রী ও সন্তানরা সহায়তা করছে। হবিগঞ্জের মিরপুর, বাহুবল, তেলিয়াপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল শলা ও রেমা ফুল সংগ্রহ করি। এরপর দু-তিনজন মিলে দিনে গড়ে ২০০ পিস ঝাড়ু তৈরি করলে সবকিছু বাদ দিয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই আয় থেকে তিন মেয়ে বিয়ে দিয়ে কোনোমতে এখন সংসার চালাই।’

খলিল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরার ভিটামাটি ছাড়া আর কোনো জমি নাই। এই কাজ করার মতো পুঁজিও নাই। ঋণের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে গেছি। ব্যাংক থেকে কম লাভে ঋণ পাইলে আরো বেশি কাজ করা যাইত।’

নারিকেল শলার ঝাড়ু তৈরির কারখানায় ঝাড়ু বাঁধাইয়ের টিন হিসেবে দুধের পট, কাঠের টুকরো ও লোহা ব্যবহূত হচ্ছে। এগুলো দিয়ে দ্রুত তৈরি হচ্ছে এসব ঝাড়ু। গ্রামের অনেকেই ক্ষুদ্র এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা দানিস মিয়া বলেন, ‘আগে বাবা এ কাজ করতেন। এখন চার বছর যাবত্ তিনি এ কাজ করছেন। তবে পুঁজি না থাকায় কষ্ট হচ্ছে। যেখানে লাখ টাকার প্রয়োজন সেখানে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে কোনোমতে ধারদেনা করে এ শিল্পকে ধরে রেখেছি। রোজ ধরে হিসাব করলে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়।’ ঝাড়ু কারিগরদের দাবি, সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।

তাহের মিয়া, মতিন মিয়া, নূরজাহান বেগম, আনু বেগমরা নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি এসব ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া গেলে শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা মনে করেন।

কমলগঞ্জের ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা সংগঠক ও গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, ক্লাস্টার পোগ্রামের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় মনিপুরীদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, ঠিক সে প্রক্রিয়ায় বাঙালি এসব শিল্প উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করলে ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। একসময়ে কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক সত্যের সন্ধান'কে জানাতে ই-মেইল করুন- sattersandhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক সত্যের সন্ধান'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক সত্যের সন্ধান | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT