মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ শিক্ষার প্রসার ঘটাতে শিগগিরই নওগায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে- খাদ্যমন্ত্রী ◈ নোয়াখালী সুবর্ণচরে মন্দিরে মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ◈ কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে গোদরোগ নির্মূলে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণসভা অনুষ্ঠিত ◈ বাগমারায় পূজা মন্দিরের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার ◈ সাইনোসাইটিস রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে বললেন, ডা. সাইফুল আলম ◈ স্বাস্থ্য বিধি মেনে কুড়িগ্রামে উৎসব-আনন্দে চলছে ৪৯৭টি মন্ডপে দূর্গাপূজা ◈ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহী পুলিশ সুপারের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান ◈ মহাদেবপুরে সড়ক গুলোতে বেপরোয়াভাবে চলছে চার্জার চালিত রিক্সা-ভ্যান, বাড়ছে দূরঘর্টনা! ◈ কুড়িগ্রামে পুঁজায় শতাধিক হরিজন শিশু নতুন পোষাক পেল ◈ সাংবাদিকের পিতৃবিয়োগ, মনীন্দ্র চন্দ্র দত্ত ভৌমিক আর নেই

সব বেসরকারিসহ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

প্রকাশিত : ১২:১০ অপরাহ্ণ, ২২ এপ্রিল ২০২০ বুধবার ৩৪৯ বার পঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধান নিউজ ডেক্স, :

করোনা মহামারিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামাজিক বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। একটি অদৃশ্য ভাইরাস স্তম্ভিত করে দিয়েছে সমগ্র মানবজাতিকে। স্থবির হয়ে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শ্লথ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা জনগণকে নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় উদ্বিগ্ন। মহাপরাক্রমশালী দেশগুলোও হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে এই সমস্যা মোকাবিলায়। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এই মহাদুর্যোগের দিনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবিলার জন্য যে অসীম ধৈর্য, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জাতির উদ্দেশে তার ভাষণে শুনিয়েছে আশার বাণী, দিয়েছেন দিক নির্দেশনা ও আমাদের করণীয় ঘোষণা করেছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা প্যাকেজ।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন চারটিসহ পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সমাজের প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত হলেও শিক্ষাখাত এখনো তার বাইরে রয়ে গেছে। শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবিক চাহিদা। শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাই মানব সংস্কৃতির বিকাশ এবং সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খাতটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
করোনা মহামারির ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে এখন ‘লকডাউন’ চলছে। অফিস, আদালত, সরকারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুর ছুটির মেয়াদ তৃতীয়বারের মতো বৃদ্ধি করা হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী গত ১৭ মার্চ থেকে বাংলাদেশের অর্ধলক্ষাধিক বেসরকারি স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে আমাদের কোমলমতি শিশুরা তাদের বাসার চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্কুলের মুক্ত পরিবেশে ছুটে বেড়ানোর ফুরসত তাদের নেই। এই সীমাবদ্ধতা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য ইতিবাচক নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তা নিয়ে বিরতিহীন চালিয়ে যাচ্ছে এবং দূর-দূরন্তে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অনেকাংশই এই অনলাইন কার্যক্রমে রয়েছে। সরকারি কোনো সাহায্যা ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীর মাসিক ফি থেকে বেসরকারি স্কুলগুলো পরিচালিত হয়। ৯৯ শতাংশ ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোর মাসিক সম্পূর্ণ আয়ের ২০-৩০ শতাংশ ঘর ভাড়া, ৫০-৬০ শতাংশ সম্মানিত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, বাকি ২০ শতাংশ বা তারও বেশি গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়ে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভর্তুকি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস ছাত্র-ছাত্রী থেকে মাসিক ফি আদায় করতে পারছে না। এ কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষরা শিক্ষকদের মাসিক বেতন দিতে পারছে না বা উদ্যোক্তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পুরো বেতনের কোনো একটা অংশ প্রদান করছে। বেতন না পেয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্দশাগ্রস্ত। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মহা সংকটে পড়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ আজ দিশেহারা! বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত সকল বেসরকারি স্কুলগুলো শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখছে এবং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে সরকারের।
সময়োপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি দেশের বেকার সমস্যা দুরীকরণে ১ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এই বেসরকারি শিক্ষাখাত। দেশে অর্ধ-লক্ষাধিক বেসরকারি স্কুলে শিক্ষাগ্রহণ করছে দুই কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। বিশেষ করে এই জাতীয় স্কুল গুলোর মধ্যে অনেকগুলো স্কুল মানসম্মত এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে মেধাবী, কর্মঠ ও আত্মবিশ্বাসী শিক্ষকদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে এবং তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উচ্চ বেতন প্রদান করে পাঠদান অব্যাহত রেখে চলেছে। শিক্ষা সেক্টরে বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলো স্ব-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং বাংলাদেশ সরকারের সকল নির্দেশনা ও ব্রিটিশ কাউঞ্চিল, ক্যামব্রিজ, এডেক্সেল পিয়ারসন সিলেবাস ও পরামর্শে পরিচালিত হয়। ইতিমধ্যে এই সব স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নানা পেশায় জড়িত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখা ও নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ অন্য বেসরকারি স্কুলগুলো কখনোই কোনো সরকারি অনুদান পায় না বা পাওয়ার আবেদনও করে না।
কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো বিশ্ব যখন দিশেহারা, দেশের অর্থনীতির টালামটাল অবস্থা। ঠিক এই দুঃসময় নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি স্কুলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে লাখ লাখ করমক্ষম মানুষ বেকার হয়ে পড়ার বিরাট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। আর কতদিন বন্ধ থাকবে সেটাও সবার অজানা। এর মধ্যে সামনে সমাগত মাহে রমজান এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মানুষ বানানোর গুরু দায়িত্ব পালন করা স্কুলগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ দুর্দশাগ্রস্ত। আশঙ্কা করছি যতই দিন যাবে ততই দেশে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকতর সংকটে নিপতিত হবে। এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে এখনই সকল বেসরকারি স্কুলগুলোর জন্যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা প্রয়োজন। আশা করছি,বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সব বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে একটি প্রনোদনার প্যাকেজ ঘোষনা করবেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক সত্যের সন্ধান'কে জানাতে ই-মেইল করুন- sattersandhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক সত্যের সন্ধান'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক সত্যের সন্ধান | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT